| বঙ্গাব্দ

পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস: শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার আদায়ের শপথ | ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-05-2026 ইং
  • 32792 বার পঠিত
পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস: শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার আদায়ের শপথ | ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: নাহিদ ইসলাম

রক্তস্নাত শিকাগো থেকে জুলাই অভ্যুত্থান: শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার হোক আগামীর অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১ মে ২০২৬

ঢাকা: আজ পহেলা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। ১৮৮৬ সালের এই দিনে আমেরিকার শিকাগোর হে মার্কেট স্কয়ারে 'দিনে আট ঘণ্টার বেশি শ্রম নয়'—এই নায্য ও মানবিক দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন শ্রমিকরা। সেদিন পুলিশের নির্বিচার গুলিতে ঝরেছিল অসংখ্য শ্রমিকের রক্ত। শিকাগোর সেই রক্তভেজা রাজপথের ওপর দাঁড়িয়েই আজ বিশ্বজুড়ে মে দিবস পালিত হচ্ছে। পহেলা মে উপলক্ষে দেশ-বিদেশে কর্মরত সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা।

১. ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান বাংলাদেশ

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ মে দিবস পালন করে আসছে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা ব্যানার, বক্তব্য আর আনুষ্ঠানিক আলোচনার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। কার্যত সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে সামান্যই। শিকাগোর শহিদরা যে শ্রমঘণ্টার জন্য জীবন দিয়েছিলেন, তা কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠিত হলেও শ্রমিকের নায্য মজুরি ও জীবনের নিরাপত্তা আজও প্রশ্নবিদ্ধ।

২. বিগত দশকের দমন-পীড়ন ও অমীমাংসিত বিচার

বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে এদেশের শ্রমিক সমাজ নজিরবিহীন দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। নায্য মজুরির দাবিতে রাস্তায় নামা শ্রমিকদের ওপর বারবার গুলি চালানো হয়েছে, অনেক শ্রমিক নেতাকে রাতের অন্ধকারে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও রানা প্লাজা ট্র্যাজিডির মতো ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের বিচার আজও সম্পন্ন হয়নি।

৩. জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শ্রমিকের স্বপ্ন

২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এদেশের ছাত্র-জনতার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শ্রমজীবী মানুষও বুক পেতে দিয়েছিলেন। পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে তারা রক্ত দিয়েছেন। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশেও আমরা লক্ষ্য করছি, বৈষম্যের পূর্ণ অবসান ঘটেনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে শ্রমজীবী মানুষের নায্য মজুরি এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

৪. আগামীর প্রত্যয়: শ্রমিক-বান্ধব বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগে তার নায্য মজুরি পরিশোধ করা হবে।

  • শ্রমিকের সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

  • মজুরি কাঠামোকে মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

  • শ্রমিক নেতাদের ওপর রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক হয়রানি চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

উপসংহার: মে দিবস মানে কেবল ছুটি বা আনুষ্ঠানিকতা নয়, মে দিবস মানে অধিকার আদায়ের অবিনাশী চেতনা। একটি বৈষম্যহীন এবং শ্রমিক-বান্ধব বাংলাদেশ গড়াই হোক আজকের দিনে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সকল শ্রমিকের জয় হোক।


তথ্যসংগ্রহ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সম্পাদনায়: নিউজ ডেস্ক

বিস্তারিত তথ্যের জন্য: bdsbulbulahmed.com

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency